পবিত্র মাহে রমজান শুরুর আগমুহূর্তে কুমিল্লার খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সোমবার নগরীর নিউমার্কেট, রাজগঞ্জ ও রাণীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। একইভাবে প্রতিহালি লেবুর দাম ১০০ টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রতিটি লেবু ২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বেগুনের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।
হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে কেনাকাটা করতে এসে হতাশা প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিকশাচালক আবদুল কাদের বলেন, “রমজান মানেই ইফতারে বেগুন ও মরিচ লাগে। কিন্তু এখন যা দাম, তাতে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসার চালাতে গিয়ে এমনিতেই হিমশিম খাই।”
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, “এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ হওয়া স্বাভাবিক নয়। রমজান সামনে রেখে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
নিম্নমধ্যবিত্ত চাকরিজীবী কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সরবরাহ কমার কোনো স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও বাজারে দাম বাড়ছে। তার মতে, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে যোগসাজশ থাকলে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
ক্রেতাদের দাবি, কাঁচামরিচ, লেবু ও বেগুনসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। অন্যথায় রমজানজুড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে সীমিত লাভে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।