মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালানোর খবর সামনে এসেছে, যার জেরে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো—ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৫১ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স ছিল ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
হামলার সময় স্কুলটিতে প্রায় ১৭০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের পর বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, আর এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিশুদের।