থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ ‘সংক্র্যান’ উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে দেশজুড়ে ঘটা ভয়াবহ সব সড়ক দুর্ঘটনায়। উৎসবের প্রথম চার দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। এই সময়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭০৫ জন। দেশটির রোড সেফটি অপারেশন সেন্টার মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) উৎসবের তৃতীয় দিনেই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন ২৩৭টি পৃথক দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে বেপরোয়া গতি ও মদ্যপান
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকদের বেপরোয়া গতি ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশই ঘটেছে অতিরিক্ত গতির কারণে। এ ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ফলে ঘটেছে ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা।
যানবাহনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক। বিশেষ করে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সোজা সড়কগুলোতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি ছিল। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর পাওয়া গেছে চাম্ফোন ও চিয়াং রাই অঞ্চল থেকে।
নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। থাই রয়্যাল পুলিশের উপমুখপাত্র মেজর জেনারেল সিরিওয়াত ডিপোর জানিয়েছেন, জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংককের জনপ্রিয় ‘খাও সান’ সড়কে যেখানে লাখো মানুষের সমাগম হতে পারে, সেখানে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপসমূহ:
কঠোর তল্লাশি: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালনা রোধে স্থাপন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট।
শিশুদের সুরক্ষা: অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি।
উৎসব নিয়ন্ত্রণ: উচ্চশক্তির ওয়াটার গান ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং ওয়াটার-প্লে জোনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।
পারিবারিক দিবস: ১৪ এপ্রিল ‘ফ্যামিলি ডে’ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল থাইল্যান্ডে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ বা সংক্র্যান উৎসব পালিত হয়। পানি খেলা বা ‘ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল’ এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলেও প্রতিবারই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি দেশটির প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।