সাভারের একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রায় ৬০০ জন আলেম। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে শীর্ষস্থানীয় আলেম, শতাধিক মাদরাসার মুহতামিম ও বিভিন্ন মসজিদের খতিবসহ প্রায় ৬০০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সাভারের মাদরাসায় শিশুটির ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আলেমদের বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতন গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধর্মীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যমান দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় নির্দিষ্ট ধরনের যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই শিশু যৌন নির্যাতনসহ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধারাসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
আলেমরা আরও অভিযোগ করেন, সমাজে সমকামী আচরণের স্বাভাবিকীকরণ এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমের বিস্তার শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত আইন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উপনিবেশে ৩৭৭ ধারার প্রচলনের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশেও দণ্ডবিধির এই ধারার কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন।
তাদের দাবি, দেশের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আবাসিক ব্যবস্থায়—শিশু বা শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনে বিচার করতে হবে।
সাভারের সাম্প্রতিক ঘটনাটির বিষয়ে বিবৃতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তদন্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিদাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মসজিদুত তাকওয়া ধানমন্ডির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।