দেশে বাজারে প্রতিদিনের খাবারেই মিশছে ভয়াবহ মাত্রার ভেজাল ও রাসায়নিক, যা মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জীবন ধারণের জন্য মানুষ প্রতিদিন বাজার থেকে মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কিনে থাকলেও এসব খাবারের একটি বড় অংশেই ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজাল উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার জন্য খাদ্যপণ্যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, রং ও নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু খাদ্য, দুধ, মিষ্টি, বেকারি পণ্য এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার মধ্যেও ভেজাল মিশ্রণ পাওয়া যাচ্ছে। ফল পাকাতে কার্বাইড, মিষ্টি ও জিলাপিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ এবং বিভিন্ন পানীয় ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত রং ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাজার থেকে সংগৃহীত বিপুল সংখ্যক নমুনার মধ্যে একটি বড় অংশে ভেজাল ও দূষণ শনাক্ত হয়েছে। ফল, শাকসবজি ও শস্যে কীটনাশকের উপস্থিতি, চাল ও মসলায় ভারী ধাতু এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিষাক্ত উপাদান দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি, লিভারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল খাদ্য এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে, যা ধীরে ধীরে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ভেজাল খাদ্য শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে বাজারে ভেজালের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, ল্যাব পরীক্ষা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন।