September 24, 2026, 3:59 am

তনু হত্যা: ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু, মিলেছে 

Reporter
ডেস্ক নিউজ, শাপলা টেলিভিশন
  • Update Time : Friday, August 7, 2026
  • 213 Time View

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে থাকা ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক দশক পর ডিএনএ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। তদন্তকারীরা ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা সামনে রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন সাবেক সেনাসদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই আদালত তনুর বন্ধু কুমিল্লার রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলামের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত এপ্রিল মাসে সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য—জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও শাহীন আলমের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

জাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিল মাসে গোপনে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে এবং সর্বশেষ অবস্থান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়েছে।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তনুর মা আনোয়ারা বেগমও মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাকের নমুনা পরীক্ষার পর তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। নতুন ডিএনএ বিশ্লেষণের তথ্য প্রকাশের পর দীর্ঘদিনের আলোচিত এ মামলার তদন্তে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
Powered By WP Solution